ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, রাষ্ট্রসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থায় আমেরিকার সমস্ত অংশগ্রহণ শেষ হয়ে যাবে ঠিকই। কিন্তু প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলারের অনাদায়ী অনুদান বকেয়া রেখে যাবে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এক বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুএইচও) থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং বিদেশ দপ্তর বলেছে, ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুএইচও) থেকে বের হয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্সের রিপোর্ট অনুসারে, রাষ্ট্রসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থায় আমেরিকার সমস্ত অংশগ্রহণ শেষ হয়ে যাবে ঠিকই। কিন্তু প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলারের অনাদায়ী অনুদান বকেয়া রেখে যাবে ওয়াশিংটন।
এইচএইচএসের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ডব্লুএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের বিশ্বাস, ডব্লুএইচও সংস্কার, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় ডব্লুএইচওর ভূমিকা বিশেষভাবে সমালোচিত হয়েছে। ডব্লুএইচও কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিকভাবে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে দেরি করেছে। সংস্থাটি অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকার স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চিন ও অন্য দেশগুলোর তুলনায় আমেরিকা ডব্লুএইচওতে বেশি অনুদান দিয়েছে। ডব্লুএইচও-র ইতিহাসে কখনও কোনও মার্কিন নাগরিক সংস্থার মহাপরিচালক হননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) জানিয়েছে যে, ডব্লুএইচও-কে দেওয়া সমস্ত তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী এর সদর দপ্তর ও অফিস থেকে মার্কিন কর্মীদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডব্লুএইচও-র অধীন অন্য সংস্থা, কারিগরি কমিটি এবং কর্মী গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণও বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা।
কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-‘২৫ সময়কালের জন্য আমেরিকার ঘোষিত ২৭ কোটি ডলারের বেশি অনুদান বকেয়া আছে। এইচএইচএসের শীর্ষ কর্তা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে ডব্লুএইচও-র সংবিধান অনুযায়ী আমেরিকা আইনগতভাবে এই অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, ডব্লুএইচও-র কাঠামোর বাইরে থেকেও আমেরিকা বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনা হবে। পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।