২৩ অক্টোবর ২০২৫, নয়া দিল্লি — ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও বেটিং-এর (betting) প্রসার রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, “ভারতের তরুণ সমাজকে আসক্তি ও আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে শক্তিশালী আইন প্রয়োজন।”
বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘অনলাইন রামি’, ‘ফ্যান্টাসি ক্রিকেট’, ও ‘রিয়েল-মানি গেমস’ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো অনেক তরুণকে ঋণের ফাঁদে ফেলছে এবং আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে বলে জানানো হয়।
সরকার ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY)-এর অধীনে একটি নতুন নীতি-খসড়া তৈরি করছে, যাতে অনলাইন গেমিং কোম্পানিগুলিকে নিবন্ধন ও ট্যাক্স-নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। আদালত কেন্দ্রকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছে, কীভাবে এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে এবং ভুয়া গেমিং অ্যাপ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভারতের ডিজিটাল বিনোদন শিল্পে একটি বড় মোড় আনতে পারে। কারণ অনেক বিদেশি কোম্পানি ভারতে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম চালায়, যেগুলির আয় বছরে হাজার কোটি রুপি ছুঁয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে তারা এখন নতুন আইন মেনে চলতে বাধ্য হবে।
মানবাধিকার সংগঠন ও অভিভাবক মহল এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিপজ্জনক জুয়া আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।