ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো Reserve Bank of India (RBI)-কে অনুরোধ করেছে যে তারা বর্তমানে ডিসেম্বরে শেষ হওয়া টেড রিলিফ ব্যবস্থা (trade relief measures) ২০২৬-এর জন্য বাড়িয়ে দেয়। এই ব্যবস্থাগুলোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রপ্তানিকারীদের জন্য ঋণ (loan) মোরাটোরিয়াম এবং পুনর্গঠন সুবিধা, যা বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা ও নেটওয়ার্ক সমস্যা থেকে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল।
এই পদক্ষেপটি মূলত ছিল এমন একটি সময়ে যখন বিশ্ব বাণিজ্যের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সরবরাহ জটিলতা এবং ট্যারিফ-সম্পর্কিত বাধাগুলোর কারণে রপ্তানিকারীরা অর্থ প্রদান ও কমিশন বিলম্ব অনুভব করছে। ব্যাংকগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি আগামী ত্রৈমাসিকেও চলতে পারে এবং রপ্তানিকারীদের Defaults (ঋণ না পরিশোধ) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে যদি এই মোরাটোরিয়াম বা রিলিফ না বাড়ানো হয়।
RBI পূর্বে এই সহজতর নীতিমালাগুলি মধ্য-নভেম্বর ২০২৫-এ অনুমোদিত করেছিল, যাতে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং ফাইনান্স সংস্থাগুলি রপ্তানিকারীদের জন্য ঋণের ফেরত প্রদানের সময়সীমা বাড়াতে পারে এবং কাজের মূলধনের চাপ কমাতে পারে। এই স্কিমটি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর ছিল, এবং চাহিদা ছিল যে এটি অন্তত একটি তিমাসিক অর্থাৎ ২০২৬-এর মার্চ অবধি বাড়ানো হোক।
ব্যাংক প্রতিনিধিরা বলছেন, বর্তমানে রপ্তানিকারীরা সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠন ও সার্টিফিকেশন-সম্পর্কিত বিলম্বগুলোর সম্মুখীন, বিশেষত এমন সেক্টরগুলোতে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ গ্লোবাল বাজারে বেশি সংযুক্ত, উদাহরণস্বরূপ মেরিন পণ্য। এই কারণে ব্যাংকগুলো বিশ্বাস করছে, বাড়তি সময় প্রদান রপ্তানিকারীদের “নিশ্চিত” করতে সহায়তা করবে এবং ঋণের ডিফল্ট পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করবে।
ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের রিলিফ মাপদণ্ড অস্থায়ী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করছে, কারণ বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রপ্তানি ভিত্তিক ব্যবসার ক্যাশ ফ্লোয়ের জন্য সহায়তা অত্যাবশ্যক। RBI এখনও কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের সময় এর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
📌 সংক্ষেপ:
ব্যাংকগুলি বলছে বর্তমান বাণিজ্য রিলিফ মাপদণ্ড রপ্তানিতে চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তা বাড়ানো উচিত, বিশেষত রপ্তানি-নির্ভর খাতগুলোর জন্য, যেমন মারিন পণ্য ও অন্যান্য শিল্প।