ছবির মতো সাজানো শহর এখন ধ্বংসস্তূপ। বাড়িঘর, দোকান, রাস্তা—সবই ক্ষতিগ্রস্ত। বিপর্যয়ের ছায়া পড়েছে পর্যটনেও।
প্রকৃতির রুদ্র রোষে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। নদী, পাহাড়, চা বাগান—সবই বিপর্যস্ত। সেই ভয়াবহতার মাঝেই রোমাঞ্চকর ঘটনা। তোর্সার উত্তাল জলে (Torsa Floods) ভেসে গিয়ে কোচবিহারের রসমতীর জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া জলদাপাড়ার গন্ডারটিকে (Jaldapara Rhinoceros) অবশেষে উদ্ধার করল বন দফতর (Forest Department)।
সকাল সকাল পুণ্ডিবাড়ির গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক। ঘরবন্দি মানুষ হঠাৎ দেখতে পান—রাস্তায় ছুটে বেড়াচ্ছে বিশালদেহী গন্ডার! ভয়ে চিৎকার, হুড়োহুড়িতে আহত হন দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা। খবর ছড়াতেই নড়েচড়ে বসে বন দফতর ও পুলিশ প্রশাসন। ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে অজ্ঞান করা হয় গন্ডারটিকে। তারপর জেসিবির সাহায্যে উদ্ধার।
চোখে-মুখে বিস্ময় নিয়ে সাধারণ মানুষও হাত লাগান অভিযানে। একসঙ্গে টানতে টানতে ট্রাক্টরে তোলা হয় ভারী প্রাণীটিকে। তারপর বন দফতরের নির্দেশে গন্ডারটিকে নিয়ে যাওয়া হয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিলাপাতার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির জেরে তোর্সা নদীর জল বেড়ে যায়। দুর্গাপুজোর বিজয়াদশমীর সময় তাতেই ভেসে যায় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেসে যায় ১০টি গন্ডারও। পরের দিন থেকেই উদ্ধারকাজে নেমেছিলেন বনকর্মীরা। বানভাসি পরিস্থিতির তিনদিন পর সাতটি গন্ডারকে উদ্ধার করেছিলেন তাঁরা। পরে আরও দুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে অন্য একটি গন্ডারকে কিছুতেই উদ্ধার করা যাচ্ছিল না।