ED অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় I-PAC তল্লাশিতে বাধা দিয়েছেন, সুপ্রীম কোর্টে মামলা দাখিল

Online Desk

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) গতকাল সুপ্রীম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিটিশন দাখিল করেছে, যেখানে তারা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের DGP ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে অভিযুক্ত করেছে যে তারা আই-প্যাক (I-PAC)-এর তল্লাশি অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। 

 

আই-প্যাক-এর কলকাতার অফিস ও তার পরিচালকের বাড়িতে ED গত সপ্তাহে মুদ্রা লন্ডারিং ও কয়লা স্ক্যাম সংক্রান্ত অনুসন্ধানের অংশ হিসাবে তল্লাশি চালায়। এই সময়ই, ED-এর দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত হয়ে জরুরি নথিপত্র, মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইস সহ বিভিন্ন জিনিস ED-এর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তুলে নিয়েছেন, যার ফলে তদন্তে অবিশ্বাস্য বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং অফিসারদের উপর ভীতি ও আটকাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে। 

 

ED দাখিল করা পিটিশনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কেন্দ্রের একটি তদন্ত সংস্থার স্বাধীন কার্যকারিতা ও কর্তব্য পালন ধ্বংস হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পিটিশনে CBI-এর মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার নির্দেশ দেয়ার আবেদনও রয়েছে, কারণ ED মনে করে রাজ্য প্রশাসনের অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পুলিশের দখল এই মামলার স্বচ্ছ অনুসন্ধানকে দমন করেছে। 

 

এই ইস্যুটি ইতোমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টেও তোলা হয়েছিল, যেখানে শুনানিটি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে। ED-এর পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে Article 32-এর আওতায় দাখিল করা হয়েছে, যা মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষার জন্য সরাসরি তলব করা যেতে পারে, যখন অন্য কোনো আইনি পথ ব্যর্থ হয়। 

 

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে “কেভিয়েট” (বাধা-নির্দেশনামূলক নোটিশ) দাখিল করেছে যাতে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্য শোনা হয়। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এ সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং দাবি করেছে যে ED আসলে তাদের নির্বাচনী কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে এবং তদ্বির করে। 

 

এই মামলাটি এখন আইনি এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক নতুন করে চাপে রয়েছে।

Share This Article
Leave a comment