দেশের সর্ববৃহৎ বিমানসংস্থা IndiGo আজ (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) এক নজিরবিহীন কার্যক্রম-সংকটে পড়ে একদিনে ৬৫০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, চেন্নাইসহ দেশের প্রায় সব বড় বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়, বিশৃঙ্খলা এবং তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পরিষ্কার তথ্য পাচ্ছেন না—ফ্লাইট কখন উড়বে, আদৌ উড়বে কি না, কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা কী।
সংকটের মূল কারণ কী?
মূলত ক্রু ও পাইলট স্বল্পতা, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও সময়সীমা সংক্রান্ত নিয়ম (FDTL) লঙ্ঘন এড়ানোর কারণে বহু ক্রু সদস্য কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, কাজের সময়সূচি নিয়ে টানাপড়েন এবং প্রাপ্য বিশ্রাম না-পাওয়া—এসব কারণে ক্রুদের একটি বড় অংশ একই দিনে কাজে রিপোর্ট করেননি। এর ফলে হঠাৎ করেই শতাধিক ফ্লাইট অপারেশন থমকে যায়।
DGCA-র কড়া পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় DGCA আজই IndiGo-কে শো-কজ নোটিস জারি করেছে। সংস্থাকে জানতে চাওয়া হয়েছে—
কেন আগেভাগে যাত্রীদের সতর্ক করা হয়নি?
কেন ক্রু-ম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে করা হয়নি?
যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে?
দ্রুত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে DGCA, না হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
বহু যাত্রী আজ বলেন—
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তথ্য মিলছে না।
এয়ারপোর্টে বিশৃঙ্খলা, কোথাও বসার জায়গা নেই, খাবার-পানীয়ের সমস্যাও দেখা দেয়।
বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে অনেকে কানেক্টিং ফ্লাইট মিস করেছেন।
IndiGo কী বলছে?
সংস্থা জানিয়েছে—
বড় ধরনের “অপারেশনাল ডিসরাপশন” হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
যাত্রীদের রিফান্ড/বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে।
শেষ কথা
ভারতের বিমান চলাচল ইতিহাসে একদিনে এত বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল অত্যন্ত বিরল। যাত্রী ও কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ বাড়ছে, আর IndiGo-র জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ—বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।