ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) ঘোষণা করেছে যে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে দিল্লি সরকারের ব্যাংকিং কার্যক্রম ও রুপি-তে প্রকাশিত সরকারি ঋণ (Public Debt)–এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা তারা গ্রহণ করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লি সরকারের আর্থিক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ এবং ঋণ পরিচালনায় আরও কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ব্যবস্থার আওতায় দিল্লি সরকারের দৈনন্দিন ব্যাংকিং লেনদেন, বিভিন্ন সরকারি হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থ জমা-উত্তোলন, এবং বাজারে জারি করা সরকারি সিকিউরিটিজ বা ঋণের ইস্যু, সুদ পরিশোধ ও রিডেম্পশন–এর দায়িত্ব সরাসরি RBI পালন করবে। সিদ্ধান্তটি RBI Act, 1934-এর বিধান অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য ব্যাংকিং ও ঋণ ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে।
এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দিল্লি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, মানসম্মত ও কেন্দ্রীয় তদারকির আওতায় আনা। অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিচ্ছিন্নতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা যায়। RBI-র সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এলে বাজেট বাস্তবায়ন, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি একক নীতি ও পেশাদার মানদণ্ড বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে দিল্লি সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি কমবে, সুদের খরচ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে এবং বাজারে সরকারের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি হিসেবে দেখার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে এই পদক্ষেপ দিল্লির আর্থিক প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।