মধ্যপ্রদেশে কার্বাইড গান (বাজি) পোড়াতে গিয়ে চোখ নষ্ট হয়েছে ১৪ শিশুর। সেনিয়ে রীতিমতো হইচই পড়েছে দেশে। এবার একই ধরনের খবর উঠে এল এরাজ্যের মালদহ থেকে। কার্বাইড গান ফাটাতে গিয়ে অন্তত ১০ জন শিশু আহত হয়েছে, চোখের দৃষ্টি হারানোর পথে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার শহরের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞর কাছে চোখ দেখাতে এসেছিলেন এক কিশোর। গাজোলের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। সে জানায়, গ্রামে এক সহপাঠী কার্বাইড বন্দুক বানানোর চেষ্টা করছিল। আগুন ধরার সময় ভুলবশত কার্বাইডের অংশ তার চোখে লেগে যায়। হুবহু একইভাবে আক্রান্ত হয়েছে হবিবপুরের এক যুবকও। তার কথায়, ‘আমাদের গ্রামের ছেলে কার্বাইড গান বানিয়েছিল। আগুন ধরে যাওয়ায় হাত লেগেছিল, আর তা চোখে লেগে ঝাপসা দেখছি, সমস্যা হচ্ছে।
মালদহের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড এবং জলের বিক্রিয়ায় তৈরি হয় দাহ্য গ্যাস অ্যাসিটিলিন। এ গ্যাসের জেরে বিস্ফোরণ ঘটে। চোখে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা থাকে। বিস্ফোরণে ছিটকে বেরোনো ধাতব বা প্লাস্টিকের টুকরো চোখের রেটিনা পুড়িয়ে দেয়, যা অনেক সময় স্থায়ী ক্ষতি করে।’
দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায়‘কার্বাইড গান’-এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে বাড়িতেই এই ধরনের বাজি বানাতে শুরু করেছে। এরফলে তিন দিনে মধ্যপ্রদেশে ১২২-এরও বেশি শিশু জখম হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের বাজি সরাসরি চোখের ক্ষতি করছে এবং শিশুদের জন্য খুবই বিপদজনক।
শহরের চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, দীপাবলিতে আতশবাজি যেমন আনন্দের, তেমনি সামান্য ভুলে সব আনন্দ মিলিয়ে যেতে পারে। তাই এসব এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।