পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড় রিচা ঘোষের নামে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। রিচা ঘোষ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর সাহসী ব্যাটিং, পাওয়ার-হিটিং দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে ইতিমধ্যেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে। সেই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যের এই বিরল উদ্যোগ ক্রীড়া জগতেও প্রশংসিত হচ্ছে।
স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে শিলিগুড়ি শহরের কাছে চান্দমণি চা বাগান সংলগ্ন এলাকায়। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৭ একর জমি স্টেডিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক স্তরে কাজের প্রাথমিক পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া অবকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছিল না। ফলে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে শিলিগুড়ির ক্রীড়া মানচিত্রই বদলে যেতে পারে।
স্টেডিয়ামের ডিজাইনে যে সব সুবিধা যুক্ত করা হবে তার মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান স্টেডিয়াম এরিয়া, আলাদা প্র্যাকটিস পিচ, আধুনিক ড্রেসিং রুম, জিমনেসিয়াম, স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টার, প্রেস ও মিডিয়া জোন, খেলোয়াড়দের জন্য রিকভারি সেন্টার এবং বড় আকারের দর্শকাসন। রাতের ম্যাচের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাডলাইটও রাখা হবে। লক্ষ্য হল, এই স্টেডিয়াম ভবিষ্যতে BCCI-র আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের যোগ্যতা অর্জন করে।
রিচার পরিবারের জন্য এই ঘোষণা ছিল এক বিশাল আবেগের মুহূর্ত। তাঁর বাবা বলেছেন, “মেয়ের ক্রিকেট শেখানোর দিনগুলোতে আমরা অনেক সংগ্রাম করেছি। আজ মুখ্যমন্ত্রী যখন রিচার নামে স্টেডিয়াম ঘোষণা করলেন, সেটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব।” রিচার মা-বাবা, কোচ এবং শিলিগুড়ির মানুষ এই ঘোষণা আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে রিচা ঘোষকে শুধু স্টেডিয়ামের সম্মানেই নয়, সামগ্রিকভাবে রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিচাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে DSP পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ তরুণীদের জন্য একটি বড় বার্তা, যাতে তারা খেলাধুলাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্যারিয়ার হিসেবে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে।
এই স্টেডিয়াম তৈরি হলে শিলিগুড়ির অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্প, পরিবহন এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসাগুলো আরও সক্রিয় হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের ক্রিকেটাররা আগের মতো কলকাতায় না গিয়ে ঘরের কাছেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধা পেয়ে যাবে। ফলে প্রতিভা বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
স্টেডিয়াম প্রকল্পের বাজেট, কাজ শুরুর সঠিক তারিখ এবং পূর্ণাঙ্গ DPR (Detailed Project Report) এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প রূপায়ণে কাজ করবে। জমি পরিষ্কার, নকশা অনুমোদন, নির্মাণ দরপত্র ইত্যাদি সম্পন্ন হলে স্টেডিয়াম নির্মাণের সময়সীমা স্পষ্ট হবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, এই সিদ্ধান্ত রিচা ঘোষের প্রতি সম্মানপ্রদর্শন তো বটেই, পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নত অবকাঠামোও তৈরি করবে। এটি আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং রাজ্যের ক্রীড়া-অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।