শৌচালয়ের বাইরে পড়েছিল সদ্যোজাত। আর শীতের রাতে তাকে সারারাত পাহারা দিল একদল পথকুকুর। সদ্যোজাতটিকে রাতভর ঘিরে রেখেছিল তারা। সকাল হতেই এই দৃশ্য চোখে পড়ে স্থানীয়দের। এরপরই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়া জেলার স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের রেল কলোনিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরবেলা আচমকাই এলাকায় ভেসে আসে শিশুর কান্নার আওয়াজ। প্রথমে কেউ কিছু বুঝতে না পারলেও সকাল হতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। দেখা যায়, স্থানীয় একটি বাড়ির শৌচালয়ের বাইরে পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত। আর শিশুটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে পাহারা দিচ্ছে পথকুকুররা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা সদ্যোজাতটিকে ওই জায়গায় ফেলে চলে গিয়েছে।
এক বাসিন্দা জানান, মাটির উপরেই রেখে দেওয়া হয়েছিল সদ্যোজাতটিকে। এমনকি শরীরে ছিল না কোনও কাপড়ও। তাঁর কথায়, ‘সকালে বাইরে এসে এমন দৃশ্য দেখেই চমকে উঠেছিলাম। তবে পথকুকুরগুলি আক্রমণাত্মক ছিল না। মনে হচ্ছিল তারাই যেন শিশুটিকে আগলে রেখেছে।’
এরপর স্থানীয়রাই সদ্যোজাতটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে তাকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, সদ্যোজাতটির শরীরের কোনও আঘাত নেই। বর্তমানে সুস্থ রয়েছে সে৷ গোটা ঘটনাটি জানানো হয়েছে পুলিশকে। সেই অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে সদ্যোজাতটির পরিবারের কোনও খোঁজ মেলেনি এখনও। কে বা কারা তাকে ফেলে গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, আশেপাশের কেউই সদ্যোজাতটিকে ফেলে চলে গিয়েছে।