মাত্র ৭ বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করে সারা বিশ্বের দাবা অনুরাগীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ভারতের বিস্ময়বালিকা প্রজ্ঞিকা লাক্ষ্মী। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্টেই বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা বয়স মানে না। ছোট্ট এই দাবাড়ুর সাফল্য এখন শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের ক্রীড়ামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রজ্ঞিকা খুব অল্প বয়স থেকেই দাবার প্রতি অসাধারণ আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন। পরিবারের উৎসাহ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁর দক্ষতা গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই তিনি যে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন, তা অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও বিস্মিত করেছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের চাল আগেভাগে বুঝে নেওয়া, চাপের মধ্যেও শান্ত থাকা এবং নিখুঁত পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর জয়ের মূল চাবিকাঠি।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রজ্ঞিকার এই সাফল্যে দেশজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কম বয়সে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় ভবিষ্যতে তাঁর আরও বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রজ্ঞিকা আগামী দিনে ভারতের দাবার নতুন মুখ হয়ে উঠতে পারেন, যেমনটা একসময় বিশ্বনাথন আনন্দ হয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্রীড়া সংগঠন, কোচ এবং সাধারণ মানুষ—সবাই প্রজ্ঞিকার সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে উঠেছে। অনেক অভিভাবকও তাঁর উদাহরণ টেনে শিশুদের মানসিক বিকাশে দাবার গুরুত্বের কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে, সাত বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রজ্ঞিকা লাক্ষ্মীর এই অর্জন নিঃসন্দেহে ভারতীয় দাবার ইতিহাসে এক গর্বের অধ্যায়। তাঁর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের অসংখ্য শিশুকে স্বপ্ন দেখাতে এবং বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে অনুপ্রাণিত করবে।