২০২৫ সালে Indian Rupee (₹) এশিয়ার অন্যতম সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FPI/FII) ব্যাপক হারে ভারত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে শুরু করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১৬–১৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশি পুঁজি ভারতীয় বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে। এর ফলে রূপির ওপর চাপ তৈরি হয় এবং ডলারের বিপরীতে রূপি ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে। বছরের শেষে রূপি ডলারের তুলনায় ₹৯০+ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা বহু বছরের মধ্যে অন্যতম নিম্নমান।
এছাড়া, ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি (trade deficit) দ্রুত বাড়তে থাকে—কারণ দেশকে বিপুল পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প-কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ঋণ-বাজারে চাপ তৈরি হওয়ায় রূপি আরও দুর্বল হয়। ঋণ নেওয়ার খরচ এবং আমদানি-ভিত্তিক পণ্যের উপরে নির্ভরতা রূপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রূপি দুর্বল হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন-খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও বাড়ছে। আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রান্নার তেলসহ নানা পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে গেছে। বিদেশে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—কারণ টিউশন ফি, থাকার খরচ, ভিসা, টিকিট সবই ডলারে নির্ধারিত, ফলে রূপি দুর্বল হলেই খরচ বাড়ে।
এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ছে—কাঁচামাল দামী হয়ে উৎপাদনখরচ বাড়ছে, ফলে পণ্যের দামও উপরে উঠছে। যদিও রপ্তানি-নির্ভর শিল্প কিছুটা সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়, কারণ ভারত এখনও বহু ক্ষেত্রেই আমদানি-নির্ভর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত রূপির ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে খরচ পরিকল্পনা করা এবং বাজার-পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা সময়ের দাবি।