দরকারে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে সমঝোতা করব’, এবার আরও বিস্ফোরক হুমায়ুন।

Online Desk

কয়েকদিন আগে অপূর্ব সরকার বলেছিলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে, সেই চ্যালেঞ্জ বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি।” তার জবাবে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন হুমায়ুন।

বিদ্রোহ এবং হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) এখন এক হয়ে গেছেন। বেশকিছু সময় ধরে তিনি একের পর এক দলবিরোধী মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তবে শনিবার তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা যে হুমায়ুন কখনও বলতে পারেন, সেটাই অনেকে ভাবেননি। তবে হুমায়ুনের ব্যাখ্যা, রাজনীতিতে সব সম্ভব।

 

‘দরকারে অধীর চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) সঙ্গে সমঝোতা করব’, এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন কবীর। কোন প্রসঙ্গে? কান্দির বিধায়ক তথা বহরমপুরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারকে (Apurba Sarkar) উদ্দেশ্য করে তিনি এ কথা বলেছেন। এর আগে তাঁকে বিঁধে হুমায়ুন বলেছিলেন, অপূর্ব সরকারই জেলা থেকে দলের নেতা তথা বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে (Jibankrishna Saha) ‘ইডি’র মাধ্যমে গ্রেফতার করিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার কাছে সেই নিয়ে “সব তথ্য ও ডকুমেন্ট” আছে এবং সময় হলেই তা প্রকাশ করবেন।

কয়েকদিন আগে অপূর্ব সরকার বলেছিলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে, সেই চ্যালেঞ্জ বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি।” তার জবাবে এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন হুমায়ুন। অধীর চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি কার্যত দলের অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন। অপূর্বকে নিশানা করে হুমায়ুন বলেন, ”রাজনীতিতে সব সম্ভব। যে অধীর চৌধুরীকে ২০২৪-এ হারিয়েছি সেই অধীর চৌধুরীর সঙ্গে দরকার হলে সিট অ্যাডজাস্টমেন্ট করব। কিন্তু অপূর্ব সরকারকে সাধারণ পাবলিক করে দেব।” হুমায়ুন এও স্পষ্ট করেন, তিনি রেজিনগরেও দাঁড়াবেন আর কান্দিতেও দাঁড়াবেন। যদি তা না পারেন তাহলে আরেক হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে এসে কান্দিতে অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবেন। দেখিয়ে দেবেন কত ধানে কত চাল হয়।

 

 

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অপূর্ব সরকারও। হুমায়ুন কবীরকে কটাক্ষ করে বলেন – তাঁর কথায় এমনিতেও কেউ পাত্তা দেয় না। তিনিও তাঁদের মধ্যেই পড়েন। ফুটপাথে বসে কে কী বলছে, সেটাও তিনি গুরুত্ব দেন না।

দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব যে দিনদিন আরও বাড়ছে তা হালফিলের ঘটনাই পরিষ্কার করে বলে দেয়। সমস্যা নিয়ে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার জানিয়েছেন, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে হুমায়ুনের আফসোস, কোনও কাজ হয়নি। কটাক্ষ করে তাই তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন – এবার তাহলে উপগ্রহে যেতে হবে। আর কোন সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে যাব। গিয়ে কাজ হয়নি বলেই তো মুখ খুলছি।

 

বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে নিয়েও বড় দাবি করেন হুমায়ুন। বলেন, অপূর্ব সরকার তাঁকে ব্যবহার করছেন। কাঁথি পুরসভার অনেক হিন্দু কাউন্সিলর তাঁকে ভোট দেননি। কেন ভোট দেয়নি।

Share This Article
Leave a comment