রংধনু আসলে কিভাবে তৈরি হয়? — বিজ্ঞানের চোখে এক রঙিন বিস্ময়

Online Desk

রংধনু প্রকৃতির এক অসাধারণ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সাধারণত বৃষ্টি থামার পর বা হালকা বৃষ্টির সময় সূর্যের আলো আকাশে ফুটে ওঠা এই সাত রঙের ধনুক মানুষকে বিস্মিত করে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে একেবারে খাঁটি বিজ্ঞান।

 

রংধনু তৈরি হয় মূলত সূর্যের আলো, বৃষ্টির জলকণা এবং আলোর প্রতিসরণ ও প্রতিফলনের কারণে। সূর্যের সাদা আলো আসলে বিভিন্ন রঙের আলোর সমষ্টি—লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, গাঢ় নীল ও বেগুনি। যখন সূর্যের আলো বৃষ্টির জলকণার উপর পড়ে, তখন প্রথমে আলো প্রতিসৃত হয়, অর্থাৎ জলকণার ভেতরে ঢুকে দিক পরিবর্তন করে।

 

এরপর সেই আলো জলকণার ভেতরের পৃষ্ঠে আঘাত করে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটায়। অর্থাৎ আলো জলকণার ভেতরেই একবার ফিরে আসে। এই প্রতিফলনের সময় বিভিন্ন রঙ ভিন্ন ভিন্ন কোণে ছড়িয়ে যায়। শেষে আলো আবার জলকণা থেকে বেরিয়ে আসে এবং দ্বিতীয়বার প্রতিসরণ ঘটে।

 

এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিটি রঙ আলাদা আলাদা কোণে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আমরা আকাশে একটি বক্রাকার সাত রঙের ধনুক দেখতে পাই। লাল রঙ থাকে সবচেয়ে উপরে এবং বেগুনি থাকে সবচেয়ে নিচে।

 

রংধনু দেখার জন্য সূর্যকে অবশ্যই পর্যবেক্ষকের পেছনে থাকতে হয় এবং সামনে থাকতে হয় বৃষ্টি বা জলকণা। তাই সাধারণত সকাল বা বিকেলের দিকে রংধনু বেশি দেখা যায়।

 

কখনও কখনও প্রধান রংধনুর বাইরে হালকা আরেকটি ধনুক দেখা যায়, যাকে দ্বিতীয় রংধনু বলা হয়। এটি আলো দু’বার প্রতিফলিত হওয়ার ফলে তৈরি হয়।

 

সব মিলিয়ে, রংধনু শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং প্রকৃতির এক নিখুঁত বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী ।

Share This Article
Leave a comment