ভারতের একাধিক রাজ্যে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ভারত ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ ও হালকা বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে আজ ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে আসে ৫০ মিটারের নিচে। এর ফলে একাধিক ট্রেন ও বিমান পরিষেবা বিলম্বিত হয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশার কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ওঠানামা করেছে। রেল পরিষেবাতেও একই ছবি— বহু দূরপাল্লার ট্রেন দেরিতে চলছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। অন্যদিকে, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার কিছু অংশে সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকলেও দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২–৩ ডিগ্রি কম থাকবে বলে পূর্বাভাস।
চিকিৎসকেরা বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। খুব ভোরে বা রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, গরম পোশাক ব্যবহার এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জানুয়ারির শুরুতেই শীতের এই তীব্রতা আগামী কয়েক দিন জনজীবন ও যাতায়াতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর।