আজ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। দিল্লি-NCR, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের একাধিক এলাকায় সকাল থেকেই দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। আবহাওয়া দফতর (IMD) পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে এবং জানিয়েছে যে আগামী কয়েকদিন এই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে বায়ুদূষণের ধোঁয়া মিশে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক এলাকায় বাতাসের গুণমান সূচক (AQI) খুব খারাপ থেকে মারাত্মক স্তরে পৌঁছেছে, যা শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। কম দৃশ্যমানতার কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট দেরিতে চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলি যাত্রীদের আগেই ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
রেল পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়েছে। উত্তর ভারতের বহু গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছে, কারণ নিরাপত্তার কারণে গতি কমিয়ে চলাচল করা হচ্ছে। সড়ক পথে চলাচলও ব্যাহত হয়েছে; হাইওয়ে ও শহরের রাস্তায় কুয়াশার কারণে গাড়ির গতি কমে গেছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে অনেক জায়গায় রাতের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং শীতজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।