বর্তমানে ভারতের উত্তর ও মধ্য অংশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শীতের এই দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে দিল্লি-NCR, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও বিহার–এর মতো রাজ্যগুলিতে রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস ও সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এর ফলে দিনের বেলা সূর্যের আলো কম পাচ্ছে এবং রাতে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অনেক জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে নেমে গেছে। এর সঙ্গে ঘন কুয়াশা যুক্ত হওয়ায় দৃশ্যমানতা অনেক এলাকায় ৫০ থেকে ১০০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে।
এই আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়ছে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক ট্রেন ও বিমানের সময়সূচিতে বিলম্ব দেখা গেছে। জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঠান্ডায় বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই গরম পোশাক ব্যবহার, খুব ভোরে বা রাতে বাইরে না বেরোনো এবং গরম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুলের সময় পরিবর্তন বা ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা এখন ভারতের বড় আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কতা। আগামী কয়েকদিন সাবধানতা মেনে চলাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।