ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, অক্টোবর ২০২৫-এ দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১১৫–১২৫% বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও কেরালার কিছু অঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে। অতিবৃষ্টির মূল কারণ হলো বঙ্গোপসাগরে ধারাবাহিক নিম্নচাপের সৃষ্টি, La Niña ফেজের সক্রিয়তা এবং সাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি বায়ু সাধারণ সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা।
এই অতিবৃষ্টির ফলে বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে, ধান, ভুট্টা, তুলা ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হতে পারে, মাঠে জল জমে ফসল সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হবে। শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, যানজট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা ভেঙে যাওয়া, নদীপাড়ের জল বৃদ্ধি ও ঘরবাড়ি ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এই বৃষ্টিপাতের কিছু ইতিবাচক প্রভাবও আছে। ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনরায় পূর্ণ হবে, এবং মাটি পরবর্তী রবি মৌসুমের ফসলের জন্য সিক্ত থাকবে। হ্রদ, জলাধার ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাবে, যা হাইড্রোপাওয়ার উৎপাদন ও জল সংরক্ষণের জন্য উপকারি।
IMD নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি চলাকালীন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বাড়ির বিদ্যুৎ ও যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থানে রাখা, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষেপে, অক্টোবরের অতিবৃষ্টি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সুযোগও নিয়ে আসে — সঠিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষতি কমানো সম্ভব।